এতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি খাত। চার বছর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে বড় ধাক্কা। সংঘাতের জেরে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।
জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্যানুযায়ী, অন্তত ১১টি বড় এলএনজি ট্যাংকার বর্তমানে এ পথে যাত্রা স্থগিত করেছে। জাপানের শিপিং জায়ান্ট নিপ্পন ইউসেন ও মিতসুই ওএসকে জাহাজগুলোকে নিরাপদ জলসীমায় অপেক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।
ইভেস্টিং ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জলপথটিকে ‘কার্যত বন্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এখন নৌ-অবরোধের কবলে পড়েছে। সংকটের কারণে কাতারি গ্যাসের বিশাল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার কোনো বিকল্প উৎস এ মুহূর্তে নেই। জ্বালানি তেলের মতো গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে অন্য পথে পাঠানোর সুযোগ না থাকায় সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের এ উত্তেজনায় এশীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কাতার থেকে জ্বালানি আমদানিতে শীর্ষে থাকা চীন, ভারত ও জাপানের আমদানিকারকরা এখন বিকল্প উৎসের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বাজারে সরবরাহ এমনিতেই কম, তার ওপর বর্তমান অস্থিরতার কারণে স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। এতে গত এক বছরের জ্বালানি মূল্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু স্পট মার্কেট নয়, দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তিগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাধারণ গ্রাহক ও শিল্প উৎপাদনকারীদের ওপর খরচের বোঝা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। কারণ ট্যাংকার চলাচল না করলে এসব কেন্দ্রের কুলিং ইউনিট সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরেও সংকটের নেতিবাচক প্রভাব ছড়াতে শুরু করেছে। ইসরায়েল গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে এবং তুরস্কে ইরানি পাইপলাইনের সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে মিসরের মতো দেশগুলো এখন চড়া দামে সমুদ্রপথে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে অবশিষ্ট থাকা গ্যাসের দখল নিতে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের ‘নিলাম যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে।